ক’রোনা ডেডিকে’টেড রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্ম’দ শাহেদ অ’প’রাধ করলে বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তার স্ত্রী’ সাদিয়া আরবি রিম্মি। র‌্যা’­বের অ’ভিযানের পর ৭ জুলাই দুপুরে সর্বশেষ মোবাইল ফোনে শাহেদের স’ঙ্গে কথা হয় তার। সাহেদ নিরাপদে আছে বলে তাকে জানিয়েছেন। এরপর থেকে শাহেদের মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাচ্ছেন স্ত্রী’ রিম্মি।

স্বা’মীর অ’পকর্ম জেনেও তা আড়াল করে এখন নানারকম কথাবার্তা বলছেন তার স্ত্রী’। নিজেকে বাঁ’চাতে নাট’ক সাজাচ্ছেন শাহেদের লোভী স্ত্রী’। মিথ্যাচারের আড়ালে ভোগ-বিলাসী জীবনযাপন করতেন তিনি।

পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট রিম্মি লোভে পড়ে বিয়ে করেছিলেন শাহেদকে। পরিবারও বিয়ে দিয়েছিলেন অ’বৈধ সম্পদের লো’ভে। সাইরেন বাজানোর হুটার লাগানো গাড়িতে দে’হরক্ষী নিয়ে চলতেন শাহেদের স্ত্রী’। শাহেদের পাপের টাকায় তিনি ভোগ-বিলাসী দাম্ভিক জীবনযাপন করতেন। রিম্মিও যেতেন সবখানে ভিআইপিদের সাথে তুলতেন ছবি।

অনেকে বলছেন, প্র’তারণা দু’র্নীতি অ’বৈধ অর্থ সম্পদ উপার্জনে নয় তাদের দাম্পত্য ক’লহ হতো শাহেদের না’রী কেলেঙ্কারী নিয়ে।
রিম্মি বলেন, অনেক দিন ধরেই তার কিছু কর্মকা’ণ্ড নিয়ে পরিবারের লোকজন নাখোশ ছিল। এ নিয়ে ২০০৮ সালের দিকে ঝামেলা হয়। এরপর ২ বছর বাপের বাড়ি ছিলেন রিম্মি। ২০১০ সালে আবার স্বা’মীর সংসারে ফেরেন।

রিম্মি আরো বলেন, পরিবারের সবার বিশ্বা’স ছিল শাহেদ বদলে গেছে। সর্বশেষ ৩-৪ বছর ধরে বাইরে থেকে দেখে সবাই সেটাই ধারণা করেন। তবে রিজেন্টে চিকিৎসার নামে যা সামনে এলো তাতে স্পষ্ট সে বদলায়নি।

শত চেষ্টা করেও তাকে বদলানো গেল না। স্বা’মীর এমন অ’পকর্মের জন্য ‘লজ্জিত ও দুঃখিত’ বলে জানান রিম্মি। তিনি বলেন, করো’নার চিকিৎসার নামে শাহেদ যা করেছে তা পীড়াদায়ক। আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। এসব প্র’তারণা তার নে’শায় পরিণত হয়ে গেছে।

রিম্মি আরো বলেন, বাইরের বি’ষয় শাহেদ বাসায় আলাপ করত না। তার বিশ্বস্ত কর্মচারীদের এ ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া ছিল। শাহেদের যেসব প্রতিষ্ঠান ছিল তার উদ্বোধ’নে হয়তো কখনও কখনও গিয়েছি। রিজেন্টে আমা’র কোনো পদ নেই। তবে সবাই সবসময় মুখে মুখে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিত।

রিম্মি স্বীকার করেন যে, সুবিধা নেওয়ার জন্যই হয়তো নানা সময় নানা পরিচয় দিত তার স্বা’মী। মানুষকে দ্রু’ত প্রভাবিত করতে পারত তার স্বা’মী। মা’র্কেন্টাইল কো-অ’পারেটিভ, রিজেন্ট হাসপাতাল, সেন্ট্রাল স্কুলসহ তার স্বা’মীর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শাহেদের স্ত্রী
রিম্মি আরো বলেন, তিনি তাকে বদলে ‘বদলে যাও’। যে জায়গায় এসেছ এটা ধরে রাখ। শেষ পর্যন্ত তার অ’পকর্ম আবার সামনে আসায় পরিবারের সবাই অ’প্রস্তুত। ভালো পরিবারের ছে’লে হলেও বিপথগামী ছিল তার স্বা’মী।

মোহাম্ম’দ শাহেদ কোথাও শাহেদ করিম নামে পরিচিত। সাতক্ষীরা শহরের কামালনগরের বাসিন্দা। তার বাবা সিরাজুল করিমের একমাত্র ছে’লে। তবে শাহেদের মা মা’রা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তার এক মে’য়ে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে সাতক্ষীরা স’রকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে থেকে এসএসসি পাস করেন সাহেদ। এরপর থেকে ঢাকায়।

পরে সাতক্ষীরায় তেমন যাতায়াত ছিল না। মাঝে মাঝে এসে দু-একদিন থেকেই ফিরতেন। তার বাবা সিরাজুল করিম ও মা শাফিয়া করিম এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। সাতক্ষীরাতেই কোটি টাকা সম্পদের মালিক ছিলেন তারা।

করিম সুপার মা’র্কেট নামে তাদের একটা মা’র্কেট ছিল শহরেই। ২০০৮ সালের দিকে এই সুপার মা’র্কেট, বাড়িসহ সব সম্পদ বিক্রি করে স্থায়ীভাবে তারা ঢাকা শিফট হয়েছেন বলে জানান সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতা’লের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অ’ভিযান চা’লায় র‌্যা’­ব। এই হাসপাতা’লের বি’রুদ্ধে নমুনা টেস্ট না করেই রো’গীদের করো’নার রিপোর্ট দেওয়ার অ’ভিযোগ পায় র‌্যা’­ব।

এ ঘ’টনায় উত্তরা পশ্চিম থা’নায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্ম’দ শাহেদ, এমডি মাসুদ পারভেজসহ ১৭ জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা হয়। এ ঘ’টনায় ৯ জন গ্রে’প্তার হয়। তবে শাহেদ এখনও প’লাতক। হাসপাতাল দুটি ও রিজেন্ট গ্রুপের অফিস সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যা’­ব।

এদিকে শাহেদের বি’রুদ্ধে মানুষের স’ঙ্গে অসংখ্য প্র’তারণার অ’ভিযোগ পাচ্ছে র‌্যা’­ব। র‌্যা’­বের গণমাধ্যম ও আইন শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, শাহেদকে গ্রে’প্তারের জন্য র‌্যা’­বের অ’ভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here