অপেক্ষার অবসান। মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রে’সিডেন্ট নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ফল পাওয়া গেল। জয়ী হলেন ডেমোক্র‌্যাট নেতা জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রে’সিডেন্ট তিনি। নির্বাচনে জয় পেয়েছেন জানার পর প্রথম কী করলেন তিনি?‌ টুইটারে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা তো দিলেনই। তারও আগে বদলে ফেললেন টুইটারে নিজের বায়ো।

এতদিন নিজের পরিচয় দিয়েছেন- একজন ডেমোক্র‌্যাট যিনি প্রে’সিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। আর‌ এখন সেই অংশ বদলে লিখলেন- নির্বাচিত প্রে’সিডেন্ট‌। সকল আমেরিকানদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত।

এরপর টুইট করে তিনি বার বার জো’র দিলেন সম্প্রীতির ও’পর। তিনি লিখলেন, আমেরিকা, আমি সম্মানিত, যে এই মহান দেশ চা’লানোর জন্য আপনারা আমায় নির্বাচিত করেছেন। আমাদের সামনে কঠিন কাজ রয়েছে। কিন্তু আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি প্রত্যেক আমেরিকানের প্রে’সিডেন্ট হব। আপনি আমায় ভোট না দিয়ে থাকলেও। যে বিশ্বাস আমার ও’পর রেখেছেন, তা বজায় রাখব।

আরো পড়ুন: প্রথম ভাষণে যা বললেন বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্বাচিত প্রে’সিডেন্ট হিসেবে প্রথম ভাষণে জো বাইডেন সকল বিভেদ ভু’লে ঐক্য ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার আহবান জানান। দেশটির ৪৬তম প্রে’সিডেন্ট হিসেবে উদ্দীপ্ত এক ভাষণে তিনি যারা তাকে ভোট দিয়েছেন, যারা তাকে ভোট দেননি, ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান সবাইকে শ’ত্রুতা ভু’লে সহযোগিতার সম্প’র্ক তৈরির আহবান জানান। খবর বিবিসির।

তিনি ঐক্য শব্দটির উপর বারবার বিশেষ গুরুত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময় যে ধরনের বিভেদ ও তি’ক্ততা তৈরি হয়েছে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন তিনি। বাইডেন বলেন, “আমরা কি হতে চাই সে নিয়ে জো’রালো সি’দ্ধান্ত নেবার সময় এসেছে। আমরা যদি একে অপরকে সহযোগিতা না করার সি’দ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে সহযোগিতা করার সি’দ্ধান্তও নিতে পারি।”

ডোনাল্ড ট্রা’ম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমিও বেশ কয়েকবার হেরেছি, আমি আপনার হতাশা বুঝতে পারছি।” দেশটিতে পু’লিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃ’ত্যুকে ঘিরে স’হিংস আন্দোলন, ক’রোনাভা’ইরাসেে বিশ্বের সবচাইতে বেশি সং’ক্র’মণ ও মৃ’ত্যুর অ’ভিজ্ঞতা না ভু’লে নতুন সমাজ গড়তে সেই অ’ভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বলেন তিনি

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক ম’হামা’রি প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করার ঘোষণা দেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

তিনি তার ভোটার, প্রচারণা ক্যাম্পের কর্মী, নির্বাচনে নানা ধরনের কাজে যারা অংশ নিয়েছেন, নিজের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের ধ’ন্যবাদ জানান। দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ ধ’ন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা যেভাবে আমার সাথে ছিলেন, সেভাবেই আমিও আপনাদের পাশেই থাকবো।”

৭৮ বছর বয়সী জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে বেশি বয়সী প্রে’সিডেন্ট। মা’র্কিন ইতিহাসে যেকোনো প্রে’সিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে এবারের নির্বাচনে। যার সংখ্যা ছিল সাত কোটি ৪০ লাখ।

জো বাইডেন মঞ্চে ওঠার আগে তার ভাইস প্রে’সিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত কমালা হ্যারিস তার ভাষণে বলেন, তিনি এখনি কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। বাইডেন এবং তিনি একসাথে বৈশ্বিক ম’হামা’রি ও বর্ণবৈষম্যকে মোকাবেলা করবেন বলে জানান। জো বাইডেনের রানিং মেট কমালা হ্যারিস হতে যাচ্ছেন আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম না’রী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রে’সিডেন্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here