রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গের লা’শকা’টা ঘরে মৃ’ত কি’শোরীদের ‘ধ”ণের’ প্রমাণ পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সারা দেশের হাসপাতাল মর্গগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশের অ’পরাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি বলছে, গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মৃ’ত কি’শোরীর লা’শ ধ”ণ করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে।

লা’শগুলোর সঙ্গে শা’রীরিক সংসর্গ করেছিলেন ডোমের সহযোগী মুন্না ভক্ত (২০)। তাকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রে’প্তার করেছে সিআইডি। শুক্রবার ঘটনাটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে তারা।

মুন্নার বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের জুরান মোল্লার পাড়ায়। সে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের কোনো কর্মচারী নয়। হাসপাতালের ডোম যতন কুমারের ভাগ্নে হওয়ার সুবাদে মুন্না সেখানে কাজ করত। ম’র্গে আসা ম’রদেহগুলো সে গ্রহণ করত।

আত্মহ’ত্যাকারী ওই কি’শোরীদের লা’শ বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ম’র্গে আনা হয়। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার এসব লা’শ কা’টার সময় নির্ধারণ ছিল পরদিন।

রাতের বেলা লা’শগুলো ম’র্গে রাখা হতো। মুন্না থাকত সেখানেই। লা’শ পাহারার দায়িত্বও ছিল তার ও’পর। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বি”কৃত মা’নসিকতা চরিতার্থ করত মুন্না।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুন্না ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আ’দালতে স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিয়েছে। পরে তাকে কা’রাগারে পাঠানো হয়েছে।

জ’বানব’ন্দিতে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও সে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয় বলে জানায়। মুন্না বলেছে, রাতে ম’র্গে সে একাই থাকত।

নিরিবিলি পরিবেশ এবং কোনো লোকজন না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘মৃ’ত মানুষের সঙ্গে শা’রীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু না।’ তবে সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুন্না যে অ’পরাধ করেছেন সেজন্য তার যাবজ্জীবন কা’রাদ’ণ্ড হতে পারে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ধরা পড়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে একটি হাসপাতাল ম’র্গের ঘটনা ধরা পড়েছে।

সারা দেশের অন্য হাসপাতালগুলোতেও অনেক ডোম কাজ করেন। তারা যে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে না সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খুঁজলে আরো অনেক পাওয়া যেতে পারে। তাই অন্যান্য হাসপাতালে সিআইডির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ ডাটাব্যাংকে সংরক্ষিত ৩০ হাজারের বেশি প্রোফাইলের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি প্রোফাইলের ক্ষেত্রে এখনও অ’পরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রোফাইলে মুন্নার মতো অ’পরাধী আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের অ’পরাধের সঙ্গে কাউকে স’ন্দেহ হলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে প্রোফাইল তৈরি করে সংরক্ষিত প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here