বর্তমান সময়ে এক মহামা’রির নাম পর’কী’য়া। বিবাহবহির্ভূত এমন অ’বৈধ স’ম্পর্কের কারণে সংসারে অশান্তি-ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি জঘন্য হ’ত্যাকা’ণ্ডও সংঘটিত হচ্ছে। পুরু’ষ-না’রী উভ’য়কেই পর’কী’য়ায় জ’ড়িত থাকতে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষ করে জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ স্ত্রী’-স’ন্তান ও স্বজনদের জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকে। ফলে অনেক সময় তাদের স্ত্রী’ পর’কী’য়া, অ’বৈধ স’ম্পর্ক ও যেনা-ব্যভিচারে জ’ড়িত হয়ে পড়ে।

ইস’লামের দৃষ্টিতে না’রী-পুরু’ষ সবার জন্য পর’কী’য়া ও যেনা-ব্যভিচার অ’ত্যন্ত জঘন্য গোনাহের কাজ। এটি কবিরা গোনাহ, মা’রাত্মক দ’ণ্ডনীয় অ’প’রাধ এবং ঘৃণিত কাজ। ইস’লামে দ’ণ্ডনীয় যত শা’স্তি আছে, এরমধ্যে যেনা-ব্যভিচার তথা পর’কী’য়ার শা’স্তিই সবচেয়ে কঠিন ও মা’রাত্মক।

সাক্ষ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে এ অ’প’রাধের দুটি শা’স্তি। একটি হলো- অবিবা’হিত অ’প’রাধীর জন্য সর্বশ’ক্তি প্রয়োগে ১০০ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসন তথা জে’ল। আর বিবা’হিত অ’প’রাধীর জন্য পাথর নি’ক্ষেপে মৃ’ত্যু নিশ্চিত করা।

সুতরাং পুরু’ষ-না’রী যেই পর’কী’য়ায় লি’প্ত হবে সে গোনাহগার হওয়ার পাশাপাশি শা’স্তিযোগ্য অ’প’রাধে অ’প’রাধী বলে গণ্য হবে।

পর’কী’য়া থেকে বিরত রাখতে ১০ দিকনির্দেশনা-

শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ইস’লামিক স্কলারদের মতামতের ভিত্তিতে মা’রাত্মক অ’প’রাধ পর’কী’য়া, যেনা-ব্যভিচার থেকে নিজেদের রক্ষা করতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।

>>স্বা’মীর স’ঙ্গে থাকা

স্ত্রী’ যদি প্রবল আশ’ঙ্কা করে যে, স্বা’মীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে নি’য়ন্ত্রণ করতে স’ক্ষম হবে না বা যেনা-ব্যভিচার ও পাপা’চারে জড়িয়ে পড়বে; তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বা’মীর কাছে তার এ দাবি করার অধিকার আছে যে-

-হয় সে (স্বা’মী) তাকে (স্ত্রী’কে) স’ঙ্গে করে বিদেশে নিয়ে যাবে। অথবা

-স্বা’মী তাকে রেখে একাকী’ বিদেশ বা দূরের সফর থেকে বিরত থাকবে।

কারণ বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নিজের ইজ্জত-সম্ভ্রম হেফাজত করা এবং গোনাহের কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

>>খোলা তালাক নেয়া

স্বা’মী যদি স্ত্রী’র দাবি, একস’ঙ্গে থাকার পরাম’র্শ বা নি’ষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে দূরে কোথাও গমন করে তাহলে স্ত্রী’র জন্য ‘খোলা তালাক’ নেয়া জায়েজ আছে। এতে স্বা’মীর দূরে অবস্থানের কারণে বিয়ের অন্যতম মূ’ল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং না’রীর ঈ’মান ও চরিত্র ক্ষ’তিগ্রস্ত হয় কিংবা ক্ষ’তিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনার আশ’ঙ্কাই বেশি।

-খোলা তালাক : কোনো কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী’ নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়াই হলো খোলা তালাক। এক্ষেত্রে স্বা’মী সে বিনিময়টি গ্রহণ করে স্ত্রী’কে বিচ্ছিন্ন করে (তালাক) দেবে। এ বিনিময় হতে পারে স্বা’মীর দেয়া মোহরানার টাকা কিংবা এর চেয়ে বেশি সম্পদ কিংবা কম।

>>আমল করা

যাদের স্বা’মী দূরে থাকে তাদের জন্য যদি উল্লিখিত কোনোটিই সম্ভব না হয় তবে-

– ধৈ’র্যধারণ করবে,

– নিয়মিত নফল রোজা রাখবে; বিশেষ করে সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের আইয়্যামে বিজের রোজা রাখা। এবং

– কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন, ইস’লামিক জ্ঞানার্জন, সাংসারিক ও অন্যান্য উপকারী কাজকর্মসহ নিজেকে ইবাদত বন্দেগি ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করা।

>>স্বা’মীর স’ঙ্গে যোগাযোগ রাখা

নিয়মিত স্বা’মীর স’ঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে একে অ’পরের প্রতি সুস’ম্পর্ক ও ভালোবাসা অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখা।

>>অ’শ্লীল বিনোদন পরিহার করা

নাট’ক, সিনেমা, গান-বাজনা, অ’শ্লীলতা ও অসৎস’ঙ্গ তথা যৌ’ন উ’ত্তেজক সব মাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কারণ যৌ’ন উ’ত্তেজক এসব বি’ষয়গুলো মানুষের মনে কু-প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরি।

>>গায়রে মাহরাম থেকে দূরে থাকা

মাহরাম নয়, এমন পরপুরু’ষের স’ঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ না রাখা। কেননা চারিত্রিক নির্মলতা ও মা’নসিক পবিত্রতা রক্ষায় এটি খুবই জরুরি।

বিশেষ করে স্বা’মীর অনুপস্থিতিতে-

স্বা’মীর বা নিজের নিকটাত্মীয় তথা- দেবর, ভাসুর, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, ভগ্নিপতি (দুলাভাই) বেয়াই ইত্যাদি ব্যক্তিকে নিজ ঘরে প্রবেশের সুযোগ না দেয়া। প্রয়োজন না থাকলে যোগাযোগ তথা দেখা-সাক্ষাৎ না করাই উত্তম।

একান্তই প্রয়োজন হলে, পরিপূর্ণ পর্দার স’ঙ্গে সামনে না এসে পেছন থেকে কথা বলা। কথা বলার ক্ষেত্রে হাসাহাসি, আবেগ ও কোমল কণ্ঠ পরিহার করাও আবশ্যক।

>>ফেতনা থেকে দূরে থাকা

গায়রে মাহরাম তথা যাদের স’ঙ্গে দেখা করা হারাম, সেসব পুরু’ষের স’ঙ্গে হাসি, দুষ্টুমি, হাতাহাতি, সামনা-সামনি খেলাধুলা, স্প’র্শ এবং বিনা প্রয়োজনে দৃষ্টিপাত, কথাবার্তা, ফোনালাপ, মেসেজিং, ভিডিও চ্যাটিংসহ কোনো জিনিস-পত্র আদান প্রদান থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

কেননা এসব কর্মকা’ণ্ডের মাধ্যমে ফেতনা সংঘটিত হয়। আর এর মাধ্যমেই পর’কী’য়া, যেনা-ব্যভিচার ও পাপা’চারের মতো মা’রাত্মক অ’প’রাধের বী’জ অঙ্কুরিত হয়।

>>বিশ্বস্ত না’রীর স’ঙ্গে থাকা

শয়তানের কুমন্ত্রণা ও কু-প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচতে যেসব স্ত্রী’র স্বা’মীরা পরিবার হতে দূরে অবস্থান করে তাদের একাকী’ কোথাও বসবাস না করাই ভালো। যাদের স’ন্তান আছে, তারা স’ন্তানদের স’ঙ্গে রাখবে। স’ন্তান না থাকলে সম্ভব হলে মা, বোন, বোনের মে’য়ে, ভাইয়ের মে’য়ে, ননদ, শাশুড়ি, মা, বাবা কিংবা আপনসহ নিকটাত্মীয় না’রীদের স’ঙ্গে থাকা উত্তম।

>>অযথা বাইরে না যাওয়া

ঘর কিংবা বাসার বাইরে না যাওয়া। একান্ত প্রয়োজনে কাছাকাছি বাইরে যাওয়ার দরকার হলে, পূর্ণাঙ্গ পর্দার স’ঙ্গে বের হওয়া এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন করা। বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে যে বি’ষয়গুলো বেশি খেয়াল রাখা জরুরি। তা হলো-

-কোনোভাবেই সুগন্ধি ব্যবহার না করা। যা মানুষকে আকর্ষণ করে।

-এমন সাজসজ্জা গ্রহণ না করা যাতে পরপুরু’ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।

-হাত, মুখমণ্ডল ও পা ঢেকে রাখা।

-বোরকা ও হিজাব চাকচিক্যপূর্ণ না হওয়া।

>>আল্লাহকে ভ’য় করা

সর্বোপরি মহান আল্লাহকে বেশি বেশি ভ’য় করা। যেনা-ব্যভিচার, পাপা’চার ও পর’কী’য়ার জন্য দুনিয়ার শা’স্তির পাশাপাশি পরকালের জাহান্নামের শা’স্তির কথা অন্তরে জা’গ্রত

রাখা। স্ত্রী’ অথবা স্বা’মীর আবেগ ও ভালোবাসাপূর্ণ কথাগুলো বেশি বেশি স্ম’রণ করা এবং প্রিয় মানুষটি ও নিজের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

বিবা’হিত ও অবিবা’হিত সব মুমিন-মুমিনা পুরু’ষ-না’রীদের উচিত কুরআন সুন্নাহ নির্দেশিত শৃঙ্খলিত জীবন যাপন করা। আল্লাহর সাহায্য কামনা করা।

আল্লাহ তা’আলা মু’সলিম উম্মাহর সব বিবা’হিত ও অবিবা’হিত পুরু’ষ-না’রীর পর’কী’য়া,

যেনা-ব্যভিচার ও পাপা’চার থেকে হেফাজত থাকতে ইস’লামি দিকনির্দেশনা মেনে চলার

তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে নিজেদের ইস’লামি জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here